সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর’ পাঁচটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। সোমবার (১৮ মে) ভোররাতে উপজেলার বিন্নাকুলি-গরকাটি এলাকায় সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর থাকা গার্ডারগুলো ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে বিকট শব্দ শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান সেতুর মাঝামাঝি অংশের পাঁচটি গার্ডার নদীতে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০২২ সালেও একই সেতুর দুটি গার্ডার নদীতে পড়ে যায়।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে যাওয়ার পর নতুন করে কাজ শুরু হলেও সম্প্রতি গার্ডারের সাপোর্টে থাকা রড ও পাইপ খুলে নেওয়ার পরই ভারসাম্য হারিয়ে গার্ডারগুলো ধসে পড়ে।
সাবেক চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিনের অভিযোগ, শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাবে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। বারবার গার্ডার ধসের ঘটনায় পুরো সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম বলেন, রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে পিলার দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে সেতু নির্মাণ অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। সেতুটিতে মোট ১৫টি স্প্যান ও ৭৫টি গার্ডার থাকার কথা, যার মধ্যে ৬০টির কাজ শেষ হয়েছিল। বারবার দুর্ঘটনায় সেতুর ভবিষ্যৎ ও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
