You are currently viewing ​মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী: ৩য় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন, বললেন ‘জনগণই আমাদের শক্তির উৎস’

​মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী: ৩য় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন, বললেন ‘জনগণই আমাদের শক্তির উৎস’

আজ বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়, কাজ চায়, ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা, শান্তি, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ চায়।

​তিনি বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।

​দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দ্বিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লিখতে পারে। আজকে দেশে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি।”

​সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লক্ষ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। आगामी এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে এবং সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।

​তারেক রহমান বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি, তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি—সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।”

​বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে, তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়। অতীতে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।

​প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।

​তিনি বলেন, “আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের অতীত ভূমিকা কী ছিল তা সবার জানা। এই দীর্ঘ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে, তারা সবাই বিএনপির কর্মী।”

​অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করা হবে। এই দেশের মানুষের অর্থ এই দেশেই থাকবে, দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে। আমরা জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।

​সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

Leave a Reply