জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটছে। নব্য স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে। সরকারের সমালোচনা করলে চোখ উপড়ে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাটে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মানুষ কষ্টে আছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সবজির দাম বেড়েছে কিন্তু বিরোধী দল হিসেবে আমরা এসবের সমালোচনা করতে পারব না। আমরা যদি সমালোচনা করি তাহলে হামলা করা হচ্ছে। চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হচ্ছে।
হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় হামলায় এক কিশোরের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমান, আপনাকে ওই কিশোরের চোখ ফেরত দিতে হবে। আপনি কীভাবে ফেরত দিবেন জানি না। তবে আপনাকে তা দিতে হবে। চোখ ফেরত পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রিয় তারেক রহমান, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন; আপনি বলেছিলেন দেশে এসে আপনার পরিকল্পনা রয়েছে। এটা আপনার কেমন পরিকল্পনা? হবিগঞ্জের জিকে গউসের অনুসারীরা হামলা করে রড দিয়ে একটা চোখ নষ্ট করে ফেলেছে একজন কিশোরের।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা শত শত আমার ভাই-বোনের চোখ নষ্ট করে, গুলি করে আজকে দিল্লিতে নির্বাসিত। তারেক রহমান, এই নতুন বাংলাদেশে আমার আরেক ভাইয়ের চোখ নষ্ট করে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না। অবশ্যই সেই কিশোরের চোখ কীভাবে ফেরত দিবেন আমরা জানি না, কিন্তু সেই চোখ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ঘর ছাড়ব না।’
নাহিদ বলেন, ‘আমরা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা করি, বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ছবি ও পোস্টার টানিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও পোস্টার টানিয়ে আপনারা সন্ত্রাস করবেন, জমি দখল করবেন, ভূমি দখল করবেন—এটা আমরা মেনে নেব না।
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর এই দেশে মুজিবের নামে ব্যবসা হয়েছে। এখন আমরা জিয়াউর রহমানের নামে কোনো ব্যবসা হতে দেব না। অবিলম্বে জিয়া-ব্যবসা বন্ধ করেন, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। কথা বলার অধিকার থাকতে হবে। জনগণের কর্মসংস্থানের অধিকার, জনগণের খাবারের অধিকার—সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রিয় কানাইঘাটবাসী, আমরা স্পষ্ট নমুনা দেখতে পাচ্ছি আগামী স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কী হতে যাচ্ছে। এই সকল লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে আবারও ভোট কারচুপি করা হবে, জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে—আপনাদেরকে সেটার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে তা ঠেকাতে পারিনি, কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি, কোনো ধরনের লাঠিয়াল বাহিনী, কোনো ধরনের সন্ত্রাসীদের আমরা জায়গা করতে দেব না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আমরা পরাজিত হই, এই দেশে নব্য ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে, নতুন স্বৈরাচার তৈরি হবে—আমরা সেটাকে রুখে দিব। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপনারা ভোট দিবেন। জনগণের পক্ষে ও উপযুক্ত প্রতিনিধির পক্ষে কথা বলবেন। শাপলাকলি এবং এনসিপির পক্ষে দাঁড়াবেন।’
এরআগে দুপুরে গোলাপগঞ্জে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে ভাঙচুর করা হয়। পরে সিলেট সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন নেতারা। সেখান থেকে সন্ধ্যায় কানাইঘাটে যান তারা।
