সিলেটের উন্নয়নে নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সবার সমন্বয়ে সিলেটের চেহারা বদলে দেওয়া হবে।
বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর আওতায় এ কাজ শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয়ভাবে নজরদারি করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে কাজের মান ও অগ্রগতি তদারকি করা যেতে পারে। কমিটিতে মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। স্থানীয় জনগণ নিজেদের স্বার্থেই নিয়মিত কাজের মান যাচাই করলে এসব অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সুরমা ও চেঙ্গেরখালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টুকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এছাড়া কুশিয়ারা নদী পুনঃখনন, বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন, গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার এবং সারি-গোয়াইন নদীর মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কাজও করা হবে।
সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। প্রকল্পের অন্যতম অংশ হিসেবে সুরমা নদীর দুই তীরে ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলার পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নদীর দুই তীরের উন্নয়ন হলে তা নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নকাজ কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়; এটি একটি দলগত উদ্যোগ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
