You are currently viewing কচুরিপানা-আবর্জনা মুক্ত হচ্ছে খোজারখলা পুকুর, সিসিক প্রশাসকের সরজমিন পরিদর্শন

কচুরিপানা-আবর্জনা মুক্ত হচ্ছে খোজারখলা পুকুর, সিসিক প্রশাসকের সরজমিন পরিদর্শন

দীর্ঘদিনের অবহেলা, কচুরিপানা আর আবর্জনার স্তূপে হারিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা পুকুরের সৌন্দর্য। একসময় এলাকার মানুষের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই পুকুর আজ পরিণত হয়েছে পরিবেশ দূষণের উৎসে। পুকুরজুড়ে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা আর চারপাশের জরাজীর্ণ অবস্থা স্থানীয়দের জন্য যেমন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি নিরাপত্তাহীনতাও তৈরি করেছে।

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। পরিত্যক্ত এই পুকুরটি সংস্কার করে আবারও জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী খোজারখলা সমাজকল্যাণ সংঘের পেছনে অবস্থিত পুকুরটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পুকুরটির বর্তমান অবস্থা দেখে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক বলেন, “একসময় এই পুকুর স্থানীয় মানুষের নানা প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘদিনের অবহেলায় এটি এখন পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে একটি জলাধার নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। পুকুরটি অবিলম্বে পরিষ্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে পুকুরটি সংস্কারের অভাবে কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে গেছে। চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় শিশুদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সবসময় ছিল। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ফলে পুকুরটি জনসাধারণের কোনো উপকারে না এসে উল্টো জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুকুরটি পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করা হলে শুধু পরিবেশের উন্নয়নই হবে না, বরং এটি স্থানীয়দের জন্য একটি নিরাপদ ও উপকারী জলাধারে পরিণত হবে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, “নগরীর প্রতিটি জলাধার সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। খোজারখলা পুকুরও সেই উদ্যোগের অংশ।”

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ, পুকুর খনন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি পুকুর ও আশেপাশে ময়লা আবর্জনা না ফেলতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

পুকুর পরিদর্শনকালে সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সিসিক প্রশাসক খোজারখলা ই ব্লক এলাকা এবং খোজারখলা আল ফালাহ মসজিদ পরিদর্শন করেন। এ সময় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ই ব্লকের সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এ সময় মসজিদের ভারপ্রাপ্ত মোতওয়াল্লী ইফতেখার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল বাসিত, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ইকবাল কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন শিপু উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন নাজিম উদ্দিন, নুনু মিয়া, প্রতীক আহমদ, রুহেল আহমদ, সুহেল আহমদ, সোহেল মিয়া প্রমুখ।

Leave a Reply