সিলেটের প্রধান নদী সুমাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে ঢল ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। ফলে রয়েছে বন্যার ঝুঁকি।
এদিকে, ঢলের কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। তবে পানি নামায় সোমবার কয়েকটি শর্তে কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের মেঘালয়ে অতিভারী বৃষ্টির কারণে নামা ঢলে রোববার থেকে বাড়তে শুরু করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদ নদীর পানি। সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। ঢলে তলিয়ে যাওয়ায় রোববার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের শতাধিক দোকান ঢলের তোড়ে ভেসে যায়। আর সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক তলিয়ে যায় ঢলের পানিতে।
সোমবার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্য মতে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১১.৬৮ মিলিমিটার, সকাল টায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৬০ মিলিমিটার। সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬ টায় পানি ছিলো ৯.৪৪ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় হয়েছে ৯.৪১ মিলিমিটার। কুশিয়ারা নদীর পানি অমলসিদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় ছিলো ১৩.০৫ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.০২ মিলিমিটার। শেওলা পয়েন্টে সকাল ৬টায় ছিলো ১০.৯৮ মিলিমিটার, সকাল ৯টায় হয়েছে ১০.৯৫ মিলিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি সকাল ৬টায় ও ৯টায় অপরিবর্তিত ছিলো।শেরপুর পয়েন্টে পানি একটু বেড়েছে। এখানে সকাল ৬টায় ছিলো ৭.৪৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় তা হয়েছে ৭.৪৬ মিলিমিটার। এছাড়া পানি কমেছে জাফলং-গোয়াইনঘাট নদীরও।
তবে ঢলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকা এখনও প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে আনোয়ারপুর এলাকায় সড়ক তলিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানান, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। একারণে ঢলও অব্যাহত আছে। ঢল অব্যাহত থাকলে সিলেটের নদ-নদীর পানি ফের বাড়তে পারে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া বলেন, পানি কমায় সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। তবে ঢলের কােণে স্রোত খুব বেশি। তাই সবাইকে সতর্কতার সাথে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া সাঁতার না জানলে কেউ যেনো পানিতে না নামেন।
