শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এ বছর প্রায় ৫৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি চামড়া সংরক্ষিত হয়েছে, যা প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। এরপরও আরও কিছু চামড়া সংরক্ষণের আশা করছে সরকার। যারা পরবর্তী ধাপে চামড়া কিনবেন, তাদের প্রক্রিয়ায় শ্লথগতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনে ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে।
রোববার বিকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে এখনই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়াটা ভালো লক্ষণ না। তবে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেও যে পরিমাণ চামড়া সংরক্ষণ হয়েছে, তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। এর চেয়ে বেশি আশা করাটা ঠিক হবে না।”
তিনি আরও জানান, আগামী দিনে চামড়া খাতকে পরিকল্পিত রূপ দিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোতে ‘স্লটার হাউজ’ (আধুনিক কসাইখানা) নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে পেশাদার দক্ষতা ও কম খরচে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস কেটে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে জবাইকৃত পশুর চামড়ার পুরোটাই সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং শহরগুলোতে পশুর বর্জ্য জমে থাকার সুযোগ থাকবে না।
হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় যেসব ট্যানারি ঝরে পড়েছে বা ব্যবসা শুরু করতে পারেনি, তাদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যাদের উদ্যম ও সক্ষমতা আছে, এমন ট্যানারিগুলোকে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করবে। তারা যাতে নিজস্ব ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) স্থাপন করতে পারে, সেজন্য কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সাভারের কেন্দ্রীয় ইটিপির সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সাভারে যেসব ট্যানারি ব্যবসা পরিচালনা করবে, তাদের প্রত্যেকটিকে এলডব্লিউজি (LWG)-র ‘গোল্ড ক্যাটাগরি’তে নিয়ে যাওয়া হবে। এটিই হবে সরকারের আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা, যাতে দেশের বাইরে চামড়াজাত পণ্য বিক্রির সময় ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ মূল্য বা বিনিময় পান।
এর আগে আলোচনা সভায় বক্তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর অবদান এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁরা জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
