সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ ভালো নেই। এত মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ এখন সেই প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটছে। তবে ওই স্রোত যত ভয়াবহ হোক, আমরা সেই স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে যাব।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমনটি বলেন ডা. শফিকুর। দুপুরে সিলেটে খুন হওয়া শিশু ফাহিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা জানান তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এসময় এক সাংবাদিক সরকারের ১০০ দিন নিয়ে তার মূল্যায়ন জানতে চান। জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ তারিখ থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। আমার মূল্যায়ন সংসদের আগামী অধিবেশনেই বলব। তবে এখন শুধু এটুকু বলি—দেশ ভালো নেই।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত মাসে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এই মাসে আবার ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। পার্লামেন্টে কোনো আলোচনা না করেই এভাবে দাম বাড়ানো জনগণের সাথে প্রতারণা। জ্বালানি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, সেখানেও আলাপ করা হয়নি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে এখন সবকিছুর দাম বাড়বে। এতে ভুক্তভোগী হবে জনগণ। এটি জনস্বার্থবিরোধী।
হামে শিশু মৃত্যু প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামে শিশু মৃত্যুর দায় সবার। কেবল অন্তর্বর্তী অন্তর্বর্তী করে লাভ নাই। অন্তর্বর্তী সরকার যদি হামের টিকা না দেয়, তাও জনগণ জানতে চায়। এই সরকার তো হঠাৎ করে গুম থেকে উঠে নাই। আরও আগে থেকেই তো হামের প্রাদুর্ভাব। তারা কেন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিল না? কেন আগে থেকে টিকার ব্যবস্থা করল না? এ ব্যাপারে আমি সংসদে কথা বলব।
শিশু ফাহিমা হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা লম্পট ছেলের হাতে ফাহিমার জীবন ও ইজ্জত ছন্নভিন্ন হয়েছে। একটা গোলাপ ফুলের মতো বাচ্চাকে তার বাবার চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই লম্পটের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে তার দুনিয়ায় বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এরকম লম্পটদের শাস্তি না হলে লম্পটদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাবে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত।
তিনি বলেন, আমরা মাসুম বাচ্চাদেরও ইজ্জত রক্ষা করতে পারছি না। অথচ আমরা বড় বড় কথা বলি। কেউ কেউ হুমকির সুরে কথা বলছি।
ডা. শফিক বলেন, জাকির এত বড় অপরাধ একা করেনি। তার আপনজনরাও এর সাথে জড়িত। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে কেউ লম্পটের সহযোগী হওয়ার সাহস করবে না।
ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৮ দিন হয়ে গেলে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার চার্জশিট প্রদান করা হলো না। এখানকার পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে তাহলে তাদের এখানে থাকার দরকার নেই। ঢাকার রামিসা হত্যার বিচার এক মাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি চাই বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এখানকার সংসদ সদস্যও এরকম ঘোষণা দেবেন। দ্রুত ফাহিমা হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবেন।
শিশু ফাহিমার বাবাকে পাশে নিয়ে একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. শফিক বলেন, আমার মুখে আমার হাসি, বুকে আমার কান্না। ফাহিমার ছবি দেখলে চোখে পানি ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
